অনুষ্ঠান - আরকাইভ
ঘরোয়া শ্রোতার আসরের বাইরে ছায়ানটের প্রথম অনুষ্ঠান পুরোনো গানের আসর। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্স্টিট্যুট মিলনায়তনের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন আবদুল আহাদ। সমগ্র বাংলার বিশিষ্ট সুরকার-গীতরচয়িতাদের সঙ্গীতের ভিতর দিয়ে বাঙালি ঐতিহ্য স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানে। এর আগে পাকিস্তানি শাসককুল কোনোরকম সহ্য করেছে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত। ভাবতে পারেনি বিদ্যাপতির গান বা দ্বিজেন্দ্রলাল অতুলপ্রাসাদ রজনীকান্ত প্রমুখ গীতিকারের গান এদেশের ঐতিহ্য বলে স্বীকৃত হতে পারে। উন্মুক্ত অঙ্গনে প্রকৃতির কাছাকাছি ছায়ানটের প্রথম অনুষ্ঠান বসন্ত ঋতুবরণ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর সংলগ্ন স্যার সলিমুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের বাড়ির গাড়ি-বারান্দার গা ঘেঁষে তৈরি হয় মঞ্চ। অনুষ্ঠানের শুরুতে হয় করিম খাঁর বসন্তের রাগালাপের রেকর্ড বাদন। এরপর পর্যায়ক্রমে সমবেত ও একক কণ্ঠে গান, আবৃত্তি। অনুষ্ঠানের শেষে শিল্পীরা ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে’ গাইতে গাইতে মঞ্চ থেকে শ্রোতাদের মাঝে নেমে যান। বসন্তের সুরে আপ্লুত হন সকলে। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের নানা আয়োজনে পরিবেশনসহ ছায়ানটের বছর জুড়ে অনুষ্ঠানের সংখ্যা চল্লিশের ওপর। মূল অনুষ্ঠান হয়ে আছে রমনার বটমূলে বৈশাখের প্রথম প্রত্যূষে নববর্ষের আবাহন। ছায়ানটের গণ্ডি ছাড়িয়ে যা এখন জাতীয় উৎসবে পরিণত।
JPAGE_CURRENT_OF_TOTAL
আরকাইভ