সঙ্গীতবিদ্যায়তন

সঙ্গীতবিদ্যায়তন

পটভূমি

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছায়ানট ঘরোয়া আর উন্মুক্ত অঙ্গনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তবে ষাটের দশকে দেশে সঙ্গীত পরিবেশনের পর্যাপ্ত শিল্পীসংখ্যার অভাব থেকেই পরিকল্পনা নেওয়া হয় সঙ্গীত শিক্ষালয় স্থাপনের। লক্ষ্য ছিল প্রথাসিদ্ধ সঙ্গীত সাধনায় সেখান থেকেই জন্ম নেবে নতুন শিল্পী। বিদ্যালয় চালাবার খরচ বহন করবার জন্য প্রাথমিকভাবে কার্যকরী সংসদের সভ্যদের সকলের নামে চাঁদা ধার্য হয়। আর ছিল ছাত্র বেতনের ভরসা। ১৩৭০-এর পয়লা বৈশাখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ইংলিশ প্রিপারেটরি স্কুলে সঙ্গীতবিদ্যায়তনের উদ্বোধন হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন সঙ্গীতসম্রাট আলাউদ্দিন খাঁর ভাই ওস্তাদ আয়েত আলী খান। দ্বারোদ্‌ঘাটন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। অধ্যক্ষ হলেন ঢাকা বেতারের গুণী যন্ত্রী মতি মিঞা (মতিয়র রহমান খান)। নজরুলগীতির জন্য প্রখ্যাত শিল্পী সোহরাব হোসেন, তবলায় বজলুল করিম এবং রবীন্দ্রসঙ্গীতের শিক্ষক হিসেবে ফরিদা খান (বারি মালিক) ও সন্‌জীদা খাতুনকে নিয়ে ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের ক্লাস শুরু হয়েছিল বাংলা একাডেমীর তৃতীয় তলায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষণ নিশ্চিত করতে অদ্যাবধি প্রয়োজনমতো নানা প্রক্রিয়া-পদ্ধতির অনুসন্ধান করে চলেছে ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন। দিনে দিনে শিক্ষার্থীসংখ্যার সাথে বেড়েছে শাখা-বিভাগ-অনুষদ এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা। বর্তমানে ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের সঙ্গীতশিক্ষা কার্যক্রমের ১০টি বিভাগে চলছে কণ্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত এবং নৃত্যকলার সাধনা। আপন সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটানোর উদ্দেশ্যে নতুন নতুন কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে সঙ্গীতপিপাসু মানুষকে।

ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তন বর্তমানে নিম্নলিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে:

ক. সঙ্গীত শিক্ষা

খ. সঙ্গীত-পরিচয়

গ. সুরের জাদু-রঙের জাদু

অটিস্টিক শিশুদের মানসিক বিকাশে সাপ্তাহিক গান ও আঁকাজোখার ক্লাস

ঘ. বিশেষ শ্রেণি

সঙ্গীতে শিক্ষণ নেয়া প্রাপ্তবয়স্ক, ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও দীর্ঘদিন গানের সাথে যুক্ত সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য বাংলা সঙ্গীতের রস, বিশেষত্ব, গায়ন রীতি-নীতি নিয়ে নিবিড় শিক্ষণ